Thursday, 30 April 2020

আজকে পরিচয় হবো সেই বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান

সাকিব আল হাসান যিনিই বতমান ক্রিকেট অল রাউন্দা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যিনি পরিচয় করে দিয়েছেন সকলের কাছে, তিনি হলেন মাগুরা জেলার কৃতি সন্তান অলরাউন্ডার সাকিব–আল–হাসান। তাঁর অবদানেই আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বের বুকে এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনিই যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণ।
সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী জন্মস্থান ও বাসস্থান :   বিশ্বসেরা এই অল–রাউন্ডার বাংলাদেশের মাগুরা জেলার কেশবমোড়ে (পশ্চিম পাড়া) সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৭ সালের ২৪ শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাশরুর রেজা কুটিল, যিনি একজন ভাল ফুটবলার ছিলেন, বর্তমানে তিনি মাগুরা কৃষি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তার মাতার নাম শিরিন রেজা।        সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী শৈশব :    শৈশবকাল থেকেই সাকিবের খেলাধুলোর প্রতি ঝোঁক ছিল। তার বাবা চাইত যে ছেলে ফুটবল খেলুক,তাই তার বাবা  মাশরুর রেজাকে অনুসরণ করে সাকিব ফুটবল খেলত।    এক সময় ফুটবলই ছিল সাকিবের নিত্যসঙ্গী।    পড়ার টেবিল, বিছানার পাশে, সব জায়গাতেই চোখের সামনে অন্তত একটি বল তার চাই। এমনকি রাতে ঘুমাতেও যেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। বল না হলে তার পড়া, খাওয়া এবং ঘুমের কোনোটাই যেন পূর্ণতা পায়না।লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে হবে এটা ছিল পরিবারের প্রথম শর্ত।    কিন্তু সাকিব একটু বড় হতেই ফুটবল থেকে ক্রিকেটের দিকে ঝোঁক পড়ল বেশি। তারপর থেকেই সবসময় ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সাকিব।    তাকে ছোটবেলায় আলাদাভাবে তাকে  কেউ ক্রিকেট খেলা শেখায়নি এবং তার এলাকার ছেলেদের সঙ্গেই তিনি ক্রিকেট খেলতেন। সারাদিন ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তার মা কিছু না বললেও, বাবা মাঝে মধ্যে রাগ করতেন। ছেলের ক্রিকেট খেলার প্রতি বিরক্ত হয়ে একদিন খেপে গিয়ে বাবা দা–বঁটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন ছেলের ব্যাট–বল।    কিন্তু শেষপর্যন্ত সব শাসন–বাধা উপেক্ষা করে সাকিব চলেছেন নিজের পথেই। ফুটবল আগের মতই টানে আজো। কিন্তু সঙ্গী করেছেন ক্রিকেটকে।        সাকিবের শিক্ষাজীবন :        পড়াশুনায় তেমন মন ছিলনা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। কোচিং,স্কুল বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তবে লেখাপড়াটাও চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।    মাগুরা ৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার্জন করেন। তারপর তিনি মাগুরা মডেল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মাত্র ১ বছর পড়াশুনা করেই বাংলাদেশ বি.কে.এস.পি স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর ঢাকার এ.আই.ভি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে অনার্স পড়েছেন।     আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী নিয়েছেন তিনি।        বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিবের অভিষেক :        সেদিনের ছোট্ট সাকিবের দিকে একদিন দৃষ্টি পড়ে মাগুরার একমাত্র ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেনের।    তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে সাকিব তার একাডেমিতে আসে প্রশিক্ষণ নিতে। শৈশবেই মেধাবী তকমা পাওয়া ক্রিকেটার সাকিব সেখানে তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়। তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রথম প্রকাশ ঘটে বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব–১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে নেমে। সেখানে ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আগমনী জানান দেয় সে। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের একাদশে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে সাকিব ১০৮ রানে নটআউট থেকে ভবিষ্যতের পথে আরেকধাপ এগিয়ে যান। সেই খেলায় কুষ্টিয়া দলকে পরাজিত করে মাগুরা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে অনন্য অবদান ছিল সাকিবের।    এরপর ২০০১ সালে বিকেএসপি’র ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাইপর্বে নির্বাচিত হন সাকিব। পরবর্তীতে নড়াইলে এক মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চলাকালীন সময়েই নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাকিব আল হাসান। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর ধারাবাহিক সাফল্যে কেবলই এগিয়ে চলার পালা।          সাকিবের পথচলার কিছু অংশ :    ২০০৬ সালে অভিষেকের পর থেকে প্রতি ম্যাচেই দারুণ খেলছেন এই অল রাউন্ডার।সাকিব আল হাসান সারা বিশ্বের ক্রিকেট মঞ্চের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।    LG ICC Award 2009 এ সাকিব দুই ক্যাটাগরিতে মনোনিত হয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব যিনি আইসিসির বর্ষসেরা পুরষ্কারের জন্য মনোনিত ১৪ জনের তালিকার একমাত্র বাংলাদেশী খেলোয়ার। তিনি ২০১১ সালে মনোনিত হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে। ২০০৮ সালে বর্ষসেরা এমার্জিং খেলোয়ারের তালিকায় ছিলেন তিনি।    ২০০৮ সালে  তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৯৬ রানে ৪ উইকেট লাভ করে আইসিসি পুরস্কার জন্য মনোনীত হন এবং সেই সময়ই ১ অক্টোবর জোনানেসবার্গে অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
সাকিব আল হাসান    


সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী জন্মস্থান ও বাসস্থান :

বিশ্বসেরা এই অল–রাউন্ডার বাংলাদেশের মাগুরা জেলার কেশবমোড়ে (পশ্চিম পাড়া) সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৭ সালের ২৪ শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাশরুর রেজা কুটিল, যিনি একজন ভাল ফুটবলার ছিলেন, বর্তমানে তিনি মাগুরা কৃষি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তার মাতার নাম শিরিন রেজা।



সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী শৈশব :

শৈশবকাল থেকেই সাকিবের খেলাধুলোর প্রতি ঝোঁক ছিল। তার বাবা চাইত যে ছেলে ফুটবল খেলুক,তাই তার বাবা  মাশরুর রেজাকে অনুসরণ করে সাকিব ফুটবল খেলত।

এক সময় ফুটবলই ছিল সাকিবের নিত্যসঙ্গী।

পড়ার টেবিল, বিছানার পাশে, সব জায়গাতেই চোখের সামনে অন্তত একটি বল তার চাই। এমনকি রাতে ঘুমাতেও যেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। বল না হলে তার পড়া, খাওয়া এবং ঘুমের কোনোটাই যেন পূর্ণতা পায়না।লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে হবে এটা ছিল পরিবারের প্রথম শর্ত।

কিন্তু সাকিব একটু বড় হতেই ফুটবল থেকে ক্রিকেটের দিকে ঝোঁক পড়ল বেশি। তারপর থেকেই সবসময় ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সাকিব।

তাকে ছোটবেলায় আলাদাভাবে তাকে  কেউ ক্রিকেট খেলা শেখায়নি এবং তার এলাকার ছেলেদের সঙ্গেই তিনি ক্রিকেট খেলতেন। সারাদিন ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তার মা কিছু না বললেও, বাবা মাঝে মধ্যে রাগ করতেন। ছেলের ক্রিকেট খেলার প্রতি বিরক্ত হয়ে একদিন খেপে গিয়ে বাবা দা–বঁটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন ছেলের ব্যাট–বল।

কিন্তু শেষপর্যন্ত সব শাসন–বাধা উপেক্ষা করে সাকিব চলেছেন নিজের পথেই। ফুটবল আগের মতই টানে আজো। কিন্তু সঙ্গী করেছেন ক্রিকেটকে।



সাকিবের শিক্ষাজীবন :



পড়াশুনায় তেমন মন ছিলনা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। কোচিং,স্কুল বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তবে লেখাপড়াটাও চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।

মাগুরা ৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার্জন করেন। তারপর তিনি মাগুরা মডেল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মাত্র ১ বছর পড়াশুনা করেই বাংলাদেশ বি.কে.এস.পি স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর ঢাকার এ.আই.ভি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে অনার্স পড়েছেন।
সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী জন্মস্থান ও বাসস্থান :   বিশ্বসেরা এই অল–রাউন্ডার বাংলাদেশের মাগুরা জেলার কেশবমোড়ে (পশ্চিম পাড়া) সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৭ সালের ২৪ শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাশরুর রেজা কুটিল, যিনি একজন ভাল ফুটবলার ছিলেন, বর্তমানে তিনি মাগুরা কৃষি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তার মাতার নাম শিরিন রেজা।        সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী শৈশব :    শৈশবকাল থেকেই সাকিবের খেলাধুলোর প্রতি ঝোঁক ছিল। তার বাবা চাইত যে ছেলে ফুটবল খেলুক,তাই তার বাবা  মাশরুর রেজাকে অনুসরণ করে সাকিব ফুটবল খেলত।    এক সময় ফুটবলই ছিল সাকিবের নিত্যসঙ্গী।    পড়ার টেবিল, বিছানার পাশে, সব জায়গাতেই চোখের সামনে অন্তত একটি বল তার চাই। এমনকি রাতে ঘুমাতেও যেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। বল না হলে তার পড়া, খাওয়া এবং ঘুমের কোনোটাই যেন পূর্ণতা পায়না।লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে হবে এটা ছিল পরিবারের প্রথম শর্ত।    কিন্তু সাকিব একটু বড় হতেই ফুটবল থেকে ক্রিকেটের দিকে ঝোঁক পড়ল বেশি। তারপর থেকেই সবসময় ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সাকিব।    তাকে ছোটবেলায় আলাদাভাবে তাকে  কেউ ক্রিকেট খেলা শেখায়নি এবং তার এলাকার ছেলেদের সঙ্গেই তিনি ক্রিকেট খেলতেন। সারাদিন ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তার মা কিছু না বললেও, বাবা মাঝে মধ্যে রাগ করতেন। ছেলের ক্রিকেট খেলার প্রতি বিরক্ত হয়ে একদিন খেপে গিয়ে বাবা দা–বঁটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন ছেলের ব্যাট–বল।    কিন্তু শেষপর্যন্ত সব শাসন–বাধা উপেক্ষা করে সাকিব চলেছেন নিজের পথেই। ফুটবল আগের মতই টানে আজো। কিন্তু সঙ্গী করেছেন ক্রিকেটকে।        সাকিবের শিক্ষাজীবন :        পড়াশুনায় তেমন মন ছিলনা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। কোচিং,স্কুল বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তবে লেখাপড়াটাও চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।    মাগুরা ৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার্জন করেন। তারপর তিনি মাগুরা মডেল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মাত্র ১ বছর পড়াশুনা করেই বাংলাদেশ বি.কে.এস.পি স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর ঢাকার এ.আই.ভি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে অনার্স পড়েছেন।     আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী নিয়েছেন তিনি।        বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিবের অভিষেক :        সেদিনের ছোট্ট সাকিবের দিকে একদিন দৃষ্টি পড়ে মাগুরার একমাত্র ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেনের।    তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে সাকিব তার একাডেমিতে আসে প্রশিক্ষণ নিতে। শৈশবেই মেধাবী তকমা পাওয়া ক্রিকেটার সাকিব সেখানে তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়। তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রথম প্রকাশ ঘটে বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব–১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে নেমে। সেখানে ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আগমনী জানান দেয় সে। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের একাদশে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে সাকিব ১০৮ রানে নটআউট থেকে ভবিষ্যতের পথে আরেকধাপ এগিয়ে যান। সেই খেলায় কুষ্টিয়া দলকে পরাজিত করে মাগুরা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে অনন্য অবদান ছিল সাকিবের।    এরপর ২০০১ সালে বিকেএসপি’র ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাইপর্বে নির্বাচিত হন সাকিব। পরবর্তীতে নড়াইলে এক মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চলাকালীন সময়েই নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাকিব আল হাসান। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর ধারাবাহিক সাফল্যে কেবলই এগিয়ে চলার পালা।          সাকিবের পথচলার কিছু অংশ :    ২০০৬ সালে অভিষেকের পর থেকে প্রতি ম্যাচেই দারুণ খেলছেন এই অল রাউন্ডার।সাকিব আল হাসান সারা বিশ্বের ক্রিকেট মঞ্চের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।    LG ICC Award 2009 এ সাকিব দুই ক্যাটাগরিতে মনোনিত হয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব যিনি আইসিসির বর্ষসেরা পুরষ্কারের জন্য মনোনিত ১৪ জনের তালিকার একমাত্র বাংলাদেশী খেলোয়ার। তিনি ২০১১ সালে মনোনিত হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে। ২০০৮ সালে বর্ষসেরা এমার্জিং খেলোয়ারের তালিকায় ছিলেন তিনি।    ২০০৮ সালে  তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৯৬ রানে ৪ উইকেট লাভ করে আইসিসি পুরস্কার জন্য মনোনীত হন এবং সেই সময়ই ১ অক্টোবর জোনানেসবার্গে অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
সাকিব আল হাসান ক্রিকেট বল হাতে নিয়ে    

আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী নিয়েছেন তিনি।



বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিবের অভিষেক :



সেদিনের ছোট্ট সাকিবের দিকে একদিন দৃষ্টি পড়ে মাগুরার একমাত্র ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেনের।

তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে সাকিব তার একাডেমিতে আসে প্রশিক্ষণ নিতে। শৈশবেই মেধাবী তকমা পাওয়া ক্রিকেটার সাকিব সেখানে তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়। তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রথম প্রকাশ ঘটে বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব–১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে নেমে। সেখানে ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আগমনী জানান দেয় সে। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের একাদশে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে সাকিব ১০৮ রানে নটআউট থেকে ভবিষ্যতের পথে আরেকধাপ এগিয়ে যান। সেই খেলায় কুষ্টিয়া দলকে পরাজিত করে মাগুরা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে অনন্য অবদান ছিল সাকিবের।

এরপর ২০০১ সালে বিকেএসপি’র ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাইপর্বে নির্বাচিত হন সাকিব। পরবর্তীতে নড়াইলে এক মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চলাকালীন সময়েই নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাকিব আল হাসান। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর ধারাবাহিক সাফল্যে কেবলই এগিয়ে চলার পালা।
সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী জন্মস্থান ও বাসস্থান :   বিশ্বসেরা এই অল–রাউন্ডার বাংলাদেশের মাগুরা জেলার কেশবমোড়ে (পশ্চিম পাড়া) সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৭ সালের ২৪ শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাশরুর রেজা কুটিল, যিনি একজন ভাল ফুটবলার ছিলেন, বর্তমানে তিনি মাগুরা কৃষি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তার মাতার নাম শিরিন রেজা।        সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী শৈশব :    শৈশবকাল থেকেই সাকিবের খেলাধুলোর প্রতি ঝোঁক ছিল। তার বাবা চাইত যে ছেলে ফুটবল খেলুক,তাই তার বাবা  মাশরুর রেজাকে অনুসরণ করে সাকিব ফুটবল খেলত।    এক সময় ফুটবলই ছিল সাকিবের নিত্যসঙ্গী।    পড়ার টেবিল, বিছানার পাশে, সব জায়গাতেই চোখের সামনে অন্তত একটি বল তার চাই। এমনকি রাতে ঘুমাতেও যেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। বল না হলে তার পড়া, খাওয়া এবং ঘুমের কোনোটাই যেন পূর্ণতা পায়না।লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে হবে এটা ছিল পরিবারের প্রথম শর্ত।    কিন্তু সাকিব একটু বড় হতেই ফুটবল থেকে ক্রিকেটের দিকে ঝোঁক পড়ল বেশি। তারপর থেকেই সবসময় ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সাকিব।    তাকে ছোটবেলায় আলাদাভাবে তাকে  কেউ ক্রিকেট খেলা শেখায়নি এবং তার এলাকার ছেলেদের সঙ্গেই তিনি ক্রিকেট খেলতেন। সারাদিন ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তার মা কিছু না বললেও, বাবা মাঝে মধ্যে রাগ করতেন। ছেলের ক্রিকেট খেলার প্রতি বিরক্ত হয়ে একদিন খেপে গিয়ে বাবা দা–বঁটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন ছেলের ব্যাট–বল।    কিন্তু শেষপর্যন্ত সব শাসন–বাধা উপেক্ষা করে সাকিব চলেছেন নিজের পথেই। ফুটবল আগের মতই টানে আজো। কিন্তু সঙ্গী করেছেন ক্রিকেটকে।        সাকিবের শিক্ষাজীবন :        পড়াশুনায় তেমন মন ছিলনা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। কোচিং,স্কুল বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তবে লেখাপড়াটাও চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।    মাগুরা ৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার্জন করেন। তারপর তিনি মাগুরা মডেল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মাত্র ১ বছর পড়াশুনা করেই বাংলাদেশ বি.কে.এস.পি স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর ঢাকার এ.আই.ভি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে অনার্স পড়েছেন।     আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী নিয়েছেন তিনি।        বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিবের অভিষেক :        সেদিনের ছোট্ট সাকিবের দিকে একদিন দৃষ্টি পড়ে মাগুরার একমাত্র ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেনের।    তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে সাকিব তার একাডেমিতে আসে প্রশিক্ষণ নিতে। শৈশবেই মেধাবী তকমা পাওয়া ক্রিকেটার সাকিব সেখানে তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়। তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রথম প্রকাশ ঘটে বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব–১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে নেমে। সেখানে ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আগমনী জানান দেয় সে। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের একাদশে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে সাকিব ১০৮ রানে নটআউট থেকে ভবিষ্যতের পথে আরেকধাপ এগিয়ে যান। সেই খেলায় কুষ্টিয়া দলকে পরাজিত করে মাগুরা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে অনন্য অবদান ছিল সাকিবের।    এরপর ২০০১ সালে বিকেএসপি’র ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাইপর্বে নির্বাচিত হন সাকিব। পরবর্তীতে নড়াইলে এক মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চলাকালীন সময়েই নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাকিব আল হাসান। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর ধারাবাহিক সাফল্যে কেবলই এগিয়ে চলার পালা।          সাকিবের পথচলার কিছু অংশ :    ২০০৬ সালে অভিষেকের পর থেকে প্রতি ম্যাচেই দারুণ খেলছেন এই অল রাউন্ডার।সাকিব আল হাসান সারা বিশ্বের ক্রিকেট মঞ্চের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।    LG ICC Award 2009 এ সাকিব দুই ক্যাটাগরিতে মনোনিত হয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব যিনি আইসিসির বর্ষসেরা পুরষ্কারের জন্য মনোনিত ১৪ জনের তালিকার একমাত্র বাংলাদেশী খেলোয়ার। তিনি ২০১১ সালে মনোনিত হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে। ২০০৮ সালে বর্ষসেরা এমার্জিং খেলোয়ারের তালিকায় ছিলেন তিনি।    ২০০৮ সালে  তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৯৬ রানে ৪ উইকেট লাভ করে আইসিসি পুরস্কার জন্য মনোনীত হন এবং সেই সময়ই ১ অক্টোবর জোনানেসবার্গে অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
সাকিব আল হাসান হাত তুলে জানান   



সাকিবের পথচলার কিছু অংশ :

২০০৬ সালে অভিষেকের পর থেকে প্রতি ম্যাচেই দারুণ খেলছেন এই অল রাউন্ডার।সাকিব আল হাসান সারা বিশ্বের ক্রিকেট মঞ্চের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

LG ICC Award 2009 এ সাকিব দুই ক্যাটাগরিতে মনোনিত হয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব যিনি আইসিসির বর্ষসেরা পুরষ্কারের জন্য মনোনিত ১৪ জনের তালিকার একমাত্র বাংলাদেশী খেলোয়ার। তিনি ২০১১ সালে মনোনিত হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে। ২০০৮ সালে বর্ষসেরা এমার্জিং খেলোয়ারের তালিকায় ছিলেন তিনি।

২০০৮ সালে  তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৯৬ রানে ৪ উইকেট লাভ করে আইসিসি পুরস্কার জন্য মনোনীত হন এবং সেই সময়ই ১ অক্টোবর জোনানেসবার্গে অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকাদের পারফরমেন্স বিচারে সাকিব আল হাসানের মত ধারাবাহিক ভাল পারফরমেন্স করা ক্রিকেটারের সংখ্যা এ দেশে খুব কমই জন্ম নিয়েছে।

এক সময়ে সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি দায়িত্বপালনকালীন সময়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে তার দল স্থান পায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরির কারণে দলকে নেতৃত্বদানেও সাকিবের দূরদর্শী জ্ঞান প্রমাণিত হয়েছে। সকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্যারিবীয় সফরে দুই ম্যাচের টেষ্ট সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জয়লাভ করে প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে টেষ্ট সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব লাভ করে। একই সাথে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও ক্যারিবীয়দের  হোয়াইট ওয়াস করতে কোন কার্পণ্য করেনি সাকিব বাহিনী। ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে এই টেষ্ট সিরিজ ১৩ উইকেটে এবং ১৫৯ রান করে দ্বিতীয় টেষ্ট সেরা খেলোয়ার এবং সিরিজ সেরা খেলোয়ারের পুরষ্কার ছিনিয়ে নেন সাকিব। ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের ৬৫ রান ও ১ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। এই সিরিজের পরে জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৪–১ ব্যবধানে জয়ী হয় সাকিবের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৪ রান করে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। প্রথম ৬ টেষ্টে মাত্র ৩ উইকেট দখল করা বাংলাদেশের অন্যতম এই অলরাউন্ডার গত ৮ টেষ্টে ৪৫ উইকেট নিয়ে নিজের যোগ্যতার যথাযথ প্রমাণই দিয়েছেন। ম্যাচে পরাজিত হয়েও অল রাউন্ডার পারফরমেন্সের জন্য সাকিবের ম্যাচ সেরার প্রমাণও রয়েছে। ২০১০ বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম টেষ্টে শ্রীলংকা ১০৭ রানে জয়ী হলেও দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬ উইকেট এবং  ১২২ রান করার সুবাদে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সাকিব।

ঐ বছরে এই অলরাউন্ডার পারফরমেন্সের ফসলই আই.সি.সি নির্বাচক প্যানেলের মনোনয়নে বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং বর্ষসেরা টেষ্ট ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের নাম সামনে চলে আসে। আর বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে সেই তালিকার শীর্ষে হিসেবে নিজের স্থান দখল করার দৌড় সাকিব যে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। ২০০৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওয়ানডে র‌্যাংকিয়ের শীর্ষে ছিলেন সাকিব। এপ্রিলে অস্টেলিয়ার শের্ন ওয়ার্টশনের কাছে শীর্ষ স্থান হারালেও ৭ মাসের মাথায় শীর্ষে ফিরেন দেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। জিম্বাবুয়ে সফরে দলের ব্যার্থতার পর জাতীয় দলের নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে হয় সাকিবকে। সে সময়ে বলেছিলেন দায়িত্ব না থাকায় এখন নির্ভর হয়ে খেলতে পারবেন তিনি। এছাড়াও সাকিবের আরও অনেক অবদান বাংলাদেশ জাতীয় দলে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে যা ভাষায় প্রকাশ প্রায় অসম্ভব।


সাকিবের সেরা অর্জনসমূহের কয়েকটি :


তার অধীনে বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ।



২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ইংলিশ কান্ট্রিতে খেলতে যাওয়া।



‘’Wisden Test Cricketer of The Year’’ – 2009 নির্বাচিত।



২০১০ সালে আইসিসি কর্তৃক বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নির্বাচিত এবং এখনো সে পদ ধরে রেখেছেন কৃতীত্বের সাথে।



এখন পর্যন্ত ২৬ টি টেস্ট খেলে দুইটি শতক ও ১২৬টি ওডিআই খেলে ৫টি শতক। এছাড়া বোলিং এ টেস্টে ৯৬ টি ও ওয়ানডে তে ১৬০টি উইকেট দখলে এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এর।



সাকিবকে মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি লাইন যথেষ্ঠ নয়,কেননা সাকিব নিজেই একটি পরিসংখ্যান, নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান ।


সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী জন্মস্থান ও বাসস্থান :   বিশ্বসেরা এই অল–রাউন্ডার বাংলাদেশের মাগুরা জেলার কেশবমোড়ে (পশ্চিম পাড়া) সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৭ সালের ২৪ শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাশরুর রেজা কুটিল, যিনি একজন ভাল ফুটবলার ছিলেন, বর্তমানে তিনি মাগুরা কৃষি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তার মাতার নাম শিরিন রেজা।        সাকিব আল হাসানের জীবন কাহিনী শৈশব :    শৈশবকাল থেকেই সাকিবের খেলাধুলোর প্রতি ঝোঁক ছিল। তার বাবা চাইত যে ছেলে ফুটবল খেলুক,তাই তার বাবা  মাশরুর রেজাকে অনুসরণ করে সাকিব ফুটবল খেলত।    এক সময় ফুটবলই ছিল সাকিবের নিত্যসঙ্গী।    পড়ার টেবিল, বিছানার পাশে, সব জায়গাতেই চোখের সামনে অন্তত একটি বল তার চাই। এমনকি রাতে ঘুমাতেও যেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। বল না হলে তার পড়া, খাওয়া এবং ঘুমের কোনোটাই যেন পূর্ণতা পায়না।লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে হবে এটা ছিল পরিবারের প্রথম শর্ত।    কিন্তু সাকিব একটু বড় হতেই ফুটবল থেকে ক্রিকেটের দিকে ঝোঁক পড়ল বেশি। তারপর থেকেই সবসময় ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সাকিব।    তাকে ছোটবেলায় আলাদাভাবে তাকে  কেউ ক্রিকেট খেলা শেখায়নি এবং তার এলাকার ছেলেদের সঙ্গেই তিনি ক্রিকেট খেলতেন। সারাদিন ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তার মা কিছু না বললেও, বাবা মাঝে মধ্যে রাগ করতেন। ছেলের ক্রিকেট খেলার প্রতি বিরক্ত হয়ে একদিন খেপে গিয়ে বাবা দা–বঁটি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন ছেলের ব্যাট–বল।    কিন্তু শেষপর্যন্ত সব শাসন–বাধা উপেক্ষা করে সাকিব চলেছেন নিজের পথেই। ফুটবল আগের মতই টানে আজো। কিন্তু সঙ্গী করেছেন ক্রিকেটকে।        সাকিবের শিক্ষাজীবন :        পড়াশুনায় তেমন মন ছিলনা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। কোচিং,স্কুল বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তবে লেখাপড়াটাও চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।    মাগুরা ৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার্জন করেন। তারপর তিনি মাগুরা মডেল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মাত্র ১ বছর পড়াশুনা করেই বাংলাদেশ বি.কে.এস.পি স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর ঢাকার এ.আই.ভি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে অনার্স পড়েছেন।     আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী নিয়েছেন তিনি।        বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিবের অভিষেক :        সেদিনের ছোট্ট সাকিবের দিকে একদিন দৃষ্টি পড়ে মাগুরার একমাত্র ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেনের।    তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে সাকিব তার একাডেমিতে আসে প্রশিক্ষণ নিতে। শৈশবেই মেধাবী তকমা পাওয়া ক্রিকেটার সাকিব সেখানে তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়। তার ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রথম প্রকাশ ঘটে বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব–১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে নেমে। সেখানে ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আগমনী জানান দেয় সে। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের একাদশে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে সাকিব ১০৮ রানে নটআউট থেকে ভবিষ্যতের পথে আরেকধাপ এগিয়ে যান। সেই খেলায় কুষ্টিয়া দলকে পরাজিত করে মাগুরা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে অনন্য অবদান ছিল সাকিবের।    এরপর ২০০১ সালে বিকেএসপি’র ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাইপর্বে নির্বাচিত হন সাকিব। পরবর্তীতে নড়াইলে এক মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চলাকালীন সময়েই নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাকিব আল হাসান। যার ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর ধারাবাহিক সাফল্যে কেবলই এগিয়ে চলার পালা।          সাকিবের পথচলার কিছু অংশ :    ২০০৬ সালে অভিষেকের পর থেকে প্রতি ম্যাচেই দারুণ খেলছেন এই অল রাউন্ডার।সাকিব আল হাসান সারা বিশ্বের ক্রিকেট মঞ্চের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।    LG ICC Award 2009 এ সাকিব দুই ক্যাটাগরিতে মনোনিত হয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাকিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব যিনি আইসিসির বর্ষসেরা পুরষ্কারের জন্য মনোনিত ১৪ জনের তালিকার একমাত্র বাংলাদেশী খেলোয়ার। তিনি ২০১১ সালে মনোনিত হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে। ২০০৮ সালে বর্ষসেরা এমার্জিং খেলোয়ারের তালিকায় ছিলেন তিনি।    ২০০৮ সালে  তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৯৬ রানে ৪ উইকেট লাভ করে আইসিসি পুরস্কার জন্য মনোনীত হন এবং সেই সময়ই ১ অক্টোবর জোনানেসবার্গে অন্যান্য বিজয়ীদের সাথে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
সাকিব আল হাসান   

সাকিবকে নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণ :



সাকিবের মা শিরিন রেজা তার ছেলেবেলার একটি ঘটনা মনে করে বলেন যে, ‘একদিন সাকিব পড়তে না বসায় রেগে গিয়ে আমি তার প্রিয় ব্যাটটি ভেঙে ফেলি। সেদিন ভীষণ কান্না করেছিল সাকিব। খুব কষ্ট পেয়েছিল। রাতে অভিমানি কণ্ঠে নিজের ক্রিকেট ব্যাটের প্রিয়তার কথা বোঝালো আমাকে। খুব মনে আছে সেদিনের কথা।’
জদি


সাকিবের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মাশরুর রেজা বললেন এক অন্যরকম এক গল্প। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলব এমন ইচ্ছাতেই প্রতিদিন স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতাম। অথচ সে হয়ে গেছে ক্রিকেটার। তবে আমি যা–ই চাই না কেন, ছেলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছি সব সময়। এখনও সেভাবেই চলছে সব।’



তবে সাকিবের বাবা কখনও মাঠে বা টিভিতে খেলা দেখেন না। জানালেন যে, ‘মাঠে বসে বা টিভিতে সরাসরি খেলা দেখার প্রতি আমার প্রচণ্ড অনাগ্রহ। ক্রিকেটে প্রতি বলেই থাকে অনিশ্চয়তা এবং উত্তেজনা। ছেলে ব্যর্থ হলে সেই উত্তেজনা অন্য সবার থেকে আমাকে বেশি আঘাত করে। যে কারণে সেই উত্তেজনা থেকে দূরে থাকতে পরে ধারণকৃত খেলা দেখে নেই।’



সাকিবের স্কুল জীবনের বন্ধু নয়ন খান জানান, মাগুরা শহরের কেশবমোড় এলাকায় বাড়ির পাশে পতিত জমিতেই চলত সাকিবের ফুটবল আর ক্রিকেটের মহড়া। তবে ক্রিকেটটাই বেশি টানত তাকে। পাড়ার ছেলেদের সাথে দল বেধে খেলার মাঝে ডুবে থাকতে যেন তার ভাল লাগত। পথে–ঘাটে, রাস্তায় যেখানেই থাকত, হঠাৎ বোলারদের মতো একটু হাত ঘুরিয়ে নেওয়া বা স্ট্রেইট–ড্রাইভের মত করে কয়েকবার ব্যাট চালানোর ভঙ্গি! যার জন্য বন্ধুরা সেই সময় সাকিবকে ‘বাগানে খেলোয়াড়’ বলে ডাকতাম।



ছোট্ট সেই সাকিব আজকের সাকিব হলেন লাল–সবুজদের গৌরবের চরিত্র। দেশ–বিদেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনায় নিয়মিতই উঠে আসে তার নাম। আশা করা যায় যে তিনি ক্রিকেট ছাড়ার আগে আরও অনেক কিছু আমাদের উপহার দিয়ে যাবেন।
জদি এই সাকিব আলহাসান এর জীবন কাহিনী    ভালো লাগে তা হলে কমমেন্ট করে জানাবেন কেমন লাগলো এবং অন্যকে শেয়ার করবেন   

No comments:

Post a Comment